নস্টালজিয়ায় মোড়ানো মাস্টারপিস: জে জে আব্রামসের 'সুপার ৮' মুভি রিভিউ

সম্প্রতি ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সিনেমা দেখলাম, নাম Super 8। পরিচালক জে জে আব্রামস এই সিনেমাটিতে সায়েন্স ফিকশন এলিমেন্টের সাথে মানবিক আবেগগুলোকে যেভাবে বুনেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ।

সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মূল ঘঠনা সম্পর্কে পরিচালক তেমন কিছু বলেননি। মূলত কাহিনীর প্লট রচনা করা হয়েছে। কিন্তু মূল ঘটনা যে এলিয়েন নিয়ে সেটা বোঝা যাচ্ছিল।

সিনেমার প্রেক্ষাপট ১৯৭৯ সাল। ওহাইওর একটি ছোট শহরের মূল চরিত্র জো ল্যাম্ব তার বাবার সাথে একা থাকে। তার স্কুলের বন্ধুরা মিলে তাদের নিজেদের তৈরি একটি 'সুপার ৮' ক্যামেরায় জম্বি মুভি বানানোর চেষ্টা করছে। সিনেমার শুটিং করার উদ্দেশ্যে তার বাকি বন্ধুদের সাথে শহরের নিকটবর্তী একটি ট্রেন স্টেশনে যায়। 

সেখানে শুটিং শুরু করার সময় হঠাৎ সিনেমার প্রোটাগনিস্ট জো ল্যাম্ব দেখতে পায় একটি ট্রাক রেল লাইনের সামনে েএসে দাড়াল। ফলে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে ট্রেনটি দূর্ঘটনার শিকার হয়। সেই ট্রেনে তারা আমেরিকান বিমান বাহিনীর লোগো দেখতে পায়। সেখানে তারা অদ্ভুত কিছু সাদা রঙের কিউব সদৃশ বস্তু দেখতে পায়।

ভয় পেয়ে দ্রুত তারা সেই স্থান ত্যাগ করার সময় আবিষ্কার করে যে সেই ট্রেনে ছিল তাদের স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক ড. উডওয়ার্ড। 

এর পরপরই শহরে শুরু হয় রহস্যময় সব কাণ্ডকারখানা—মানুষ নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে অদ্ভুত সব ইলেকট্রনিক বিভ্রাট। দ্রুতই তারা বুঝতে পারে যে, সেই দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের ভেতরে এমন কিছু ছিল যা এই পৃথিবীর নয়।

যদিও সিনেমাটিতে দুর্দান্ত স্পেশাল ইফেক্টস এবং অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে (ট্রেন দুর্ঘটনার দৃশ্যটি দেখার মতো), তবে আমি যা সত্যিই পছন্দ করেছি তা হলো এর মূল ভিত্তি—একদল তরুণ বন্ধু যারা কেবল একসাথে সময় কাটাচ্ছে এবং নিজেদের প্রিয় কোনো কাজ একসাথে করছে, আর একে অপরকে সারাক্ষণ তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা মজা করছে। এই বয়সের বাচ্চারা ঠিক এমনই হয়। 




অ্যালিস (এল ফ্যানিং) চরিত্রটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় কারণ সে এমন এক কিউট মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছে যার ওপর সবার ক্রাশ থাকে, এবং সে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে কারণ সে-ও তাদের মতো একই রকম ‘গিকি’ শখের অংশীদার। 

তার এবং জো-এর (জোয়েল কোর্টনি) মধ্যকার রোমান্সটি ছিল অত্যন্ত মিষ্টি এবং বিশ্বাসযোগ্য। এই স্পেশাল ইফেক্টস বা রোমাঞ্চ ছাড়াও আমি স্রেফ এই বন্ধুদের নিয়ে তৈরি অন্য কোনো সিনেমা দেখার জন্য টাকা খরচ করতে রাজি আছি; আমি তাদের বন্ধুত্ব এবং সংলাপগুলো এতটাই উপভোগ করেছি।

এটি দেখে মনে হয় যেন আব্রামস এই সিনেমাটি স্পিলবার্গের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে তৈরি করেছেন। এতে “The Goonies,” “E.T.” এবং “Jurassic Park”-এর মতো সিনেমাগুলোর সাথে অনেক মিল রয়েছে—যেগুলো স্পিলবার্গ নিজে পরিচালনা বা প্রযোজনা করেছেন। 



এতে রয়েছে পরিবার, বিস্ময়, আবিষ্কার এবং রোমাঞ্চের সেই ধ্রুপদী উপাদানগুলো। তাই যদিও “Super 8” হয়তো সেই স্মরণীয় সিনেমাগুলোর জাদুকরী স্পর্শের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকবে, তবুও এটি পুরোপুরি উপভোগ্য এবং আমি এটি দেখার জন্য জোর সুপারিশ করছি। আমি এটাও আশা করি যে এই সিনেমাটি সফল হবে এবং ভবিষ্যতে আরও মৌলিক সিনেমা তৈরির পথ প্রশস্ত করবে।

যাই হোক, সিনেমার শেষের ক্রেডিটগুলো (credits) চলাকালীন অবশ্যই অপেক্ষা করবেন ছেলেদের বানানো সেই জম্বি সিনেমাটির চূড়ান্ত রূপ দেখার জন্য। এটি ছিল দারুণ মজার!

Md Samiur Rahman Sazzad

Hello Everyone. Welcome To The Official Website Of MD Samiur Rahman Sazzad. Sazzad Is A Writer, Editor, Political Analyst And Social Activist. He Is The News Room Editor And Feature Writer Of News Views Media. He Is Currently Studying BSS In Mass Communication And Journalism In Jagannath University And Has A Keen Interest To Observe The Current Political Situation Of Bangladesh.

Post a Comment

Previous Post Next Post